জাপান সরকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরে দেশটিতে উচ্চবিদ্যালয়সহ শিক্ষার্থী পর্যায়ে আত্মহত্যার সংখ্যা রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালে মোট ৫৩২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যা ১৯৮০ সালে তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ সংখ্যা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৫২ জন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের, ১৭০ জন নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবং ১০ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২০ সালের পর থেকে নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। গত বছর সব বয়সভিত্তিক হিসাবেই নারী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় বেশি ছিল।
১৯ বছর বা তার কম বয়সী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আত্মহত্যার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বিদ্যালয়-সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা। এর মধ্যে পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল, ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা এবং বিষণ্ণতাসহ নানা ধরনের মানসিক ও স্বাস্থ্যগত চাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক পরামর্শ ও সহায়তা পরিষেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অতীতেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ার সময় মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার হার বৃদ্ধি পেয়েছিল। সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রবণতা বিশ্লেষণ করে কার্যকর নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।