চব্বিশের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা পরিবর্তনের পাশাপাশি অনেকের অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গিরও পরিবর্তন প্রকাশ পেতে শুরু করেছে।
বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে ঘিরে কিছু বক্তব্য ও অবস্থান জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন মহলের নেতিবাচক মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতে দেখা যাচ্ছে।
কিছু গোষ্ঠী এমন বক্তব্য দিচ্ছে যে, একাত্তরে যারা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন, তাদেরই নাকি ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। এ ধরনের মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপিসহ সাধারণ জনগণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে আন্দোলন করেছিল, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আন্দোলনের সময় অনেকেই আশা করেছিলেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ তৈরি হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অভিযোগ ওঠে, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করছে, আন্দোলনটি কেবল নির্বাচনকেন্দ্রিক ছিল না, বরং ‘সংস্কার’-এর লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে।
এই তথাকথিত সংস্কারের ব্যাখ্যায় ১৯৪৭ ও ২০২৪ সালকে ‘মূল স্বাধীনতা’ হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বকে খাটো করার প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এমন বক্তব্যে বলা হচ্ছে, ১৯৭১ ছিল একটি ‘গণ্ডগোল’ এবং ভারত ষড়যন্ত্র করে পাকিস্তান ভেঙে দিয়েছে—যা দেশের প্রতিষ্ঠিত ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাসকে বিকৃত করার শামিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত থেকে শুরু করে পরবর্তী নয় মাসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে নির্মম গণহত্যা চালায়, তা বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস অধ্যায়। এ সময় রাজাকার বাহিনীসহ কিছু দেশীয় সহযোগী শক্তি পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তা করে, যার ফলে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং অসংখ্য নারী নির্যাতনের শিকার হন।