সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো এক আইনি চিঠিতে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচারপ্রক্রিয়া ও রায়কে অবৈধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।
গত ৩০ মার্চ লন্ডনভিত্তিক আইন প্রতিষ্ঠান কিংসলি ন্যাপলি এলএলপি বাংলাদেশে স্থাপিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বরাবর ই-মেইলের মাধ্যমে এ চিঠি পাঠায়। তবে বুধবার (১ এপ্রিল) এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউশন অফিস বা ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের কেউই চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ন্যায্য বিচার ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক মানদণ্ডের পরিপন্থী। এতে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, অভিযোগ সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত হওয়ার অধিকার এবং নিজের পছন্দের আইনজীবী পাওয়ার অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলা হয়েছে। বিচারকদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, তাদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং বিচার চলাকালে পক্ষপাতমূলক মন্তব্যের মাধ্যমে বিচারিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে চিঠিতে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে প্রধান কৌঁসুলির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার প্রসারিত করে ২০২৪ সালের ঘটনাবলির বিচার করা হয়েছে, যা মূল আইনের উদ্দেশ্যের বাইরে এবং আইনকে ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগের শামিল। এ ধরনের অভিযোগ সাধারণ ফৌজদারি আদালতে বিচার হওয়া উচিত ছিল বলেও মত দেওয়া হয়।
এতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায্য বিচারের অধিকার, সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই এবং প্রতিরক্ষার সুযোগসহ একাধিক মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এমনকি এ ধরনের বিচার শেষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা সামারি এক্সিকিউশন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।