সাম্প্রতিক :
এশিয়ায় জ্বালানি সরবরাহ জোরদারে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেবে জাপান দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ঢাকা আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার পার্লামেন্টে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না : গোলাম মাওলা রনি ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ ১৮ মাসে ড. ইউনূস দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন: মনজিল মোরসেদ স্বাধীনতা পুরস্কার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ৫ লাখ শূন্যপদে জনবল নিয়োগ দেয়া হবে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ‘বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগে তদন্ত চলছে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে’ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত

হামের প্রাদুর্ভাবে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে শঙ্কায় অভিভাবকরা

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে অনেক অভিভাবকই উদ্বিগ্ন। হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের বয়স সাধারণত পাঁচ বা তার বেশি। তাদের এরই মধ্যে হামের দুটি টিকা পাওয়ার কথা। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি নেই।

জানা যায়, হাম আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত অন্তত ৩৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই ৩২ জনের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে।
রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার একটি কিন্ডারগার্টেনে কেজি শ্রেণিতে পড়ছে আফসানা আজাদ তানির ছয় বছর বয়সী সন্তান। তিনি বলেন, আমার সন্তানের দুটো টিকাই দেওয়া কিন্তু এর পরও ভয় কাজ করছে। বিশেষত আমার দুই বছর বয়সী মেয়ে রয়েছে। তার জন্য বেশি ভয় পাচ্ছি। কোনো কারণে বড় সন্তান বিদ্যালয়ে গিয়ে তার মাধ্যমে ছোট সন্তানও সংক্রমিত হয় কিনা।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬ জন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪ জন এবং রাজশাহী ও পাবনায় ১ জন করে শিশু মারা গেছে। তবে বিভিন্ন জেলা ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য যোগ করলে এ বছর মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪৬ বা তারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঢাকার বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগের ঢাকা জেলা ব্যতীত ১৩ জেলায় নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ৪০ জনের আর গত জানুয়ারি থেকে সোমবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৯৫।

গোপালগঞ্জের গৃহিণী রেশমা খানমের বড় সন্তান স্থানীয় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে তিনি তার সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে চান না। তিনি বলেন, হাম সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এটি খুবই ছোঁয়াচে হওয়ায় আমার ছেলেকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি। কারণ স্কুলে অনেক বাচ্চা একসঙ্গে থাকে এবং সবার টিকা দেয়া কিনা সেটা তো আমরা জানি না। আবার টিকা দেয়া থাকলেও সন্তান পুরোপুরি নিরাপদ কিনা সেটিও বুঝতে পারছি না।

স্কুলপড়ুয়াদের নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবু জাফর ফয়সাল বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের বয়স সাধারণত পাঁচ বা তার বেশি। আর হামের দুটি টিকাই দেওয়া হয় ১৫ মাস বয়সের মধ্যে। অর্থাৎ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যারা পড়ছে তাদের এরই মধ্যে হামের দুটি টিকা পাওয়ার কথা এবং তারা সংক্রমণের ঝুঁকিতে নেই। তবে কেউ যদি টিকা না দিয়ে থাকে তাহলে ঝুঁকি থাকে।

 

এক্ষেত্রে অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ থাকবে যদি সন্তানদের টিকা দেয়া থাকে তবে তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। আর যদি কোনো শিশুরে মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায় তবে তাকে দ্রুত আইসোলেট করে ফেলতে হবে। দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com