আজ শুক্রবার (৮ মে), ২৫ বৈশাখ। বাঙালির আত্মিক মুক্তি, মানবিক চেতনা ও সৃজনশীলতার অন্যতম প্রধান প্রেরণাস্বরূপ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী দেশব্যাপী নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে অসামান্য অবদান রাখা এই মহাকবি বাঙালির জাতীয় চেতনা, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম প্রতীক হিসেবে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ১৮৬১ সালের ২৫ বৈশাখ (১২৬৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকো-এর ঠাকুর পরিবারে তাঁর জন্ম হয়।
রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের ইতিহাসও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে। ১৮৮৭ সালে প্রথমবার পারিবারিকভাবে কবিগুরুর জন্মদিন উদযাপন করেন তাঁর ভাগনি সরলাদেবী চৌধুরাণী। বকুল ফুলের মালা ও নতুন ধুতি-চাদরে কবিকে বরণ করার সেই স্মৃতিচারণ তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর গ্রন্থ ‘জীবনের ঝরাপাতা’-তে। পরবর্তীতে ১৯১০ সাল থেকে শান্তিনিকেতন-এ নিয়মিতভাবে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনের প্রথা শুরু হয়।
এ বছর ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দেশব্যাপী তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে শিলাইদহ-এ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নিতাই রায় চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন শিক্ষাবিদ ওয়াকিল আহমেদ। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা।
রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত পতিসর, শাহজাদপুর এবং দক্ষিণডিহি-তেও সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পতিসরের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম-এর। শাহজাদপুরে উপস্থিত থাকবেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং দক্ষিণডিহির অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মো. আসাদুজ্জামান।
রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি জেলায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি চার দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তির সমন্বয়ে বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে বাংলা একাডেমি এবং ছায়ানট দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র উৎসবের আয়োজন করেছে।
বিশ্বকবির মানবিক দর্শন ও শান্তির বাণী নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন কবির জীবন ও কর্ম নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।