সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় এক নারী চিকিৎসকসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার রাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন, যাদের মধ্যে একজন নারী চিকিৎসক রয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পর শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির। তিনি বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হাসপাতাল প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পর থেকে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে হামলার ঘটনার প্রতিবাদ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে শুক্রবার রাত থেকেই অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসপাতালের পরিচালকসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।
বৈঠক শেষে ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ কয়েকটি যৌক্তিক দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব দাবি পূরণ হলে যে কোনো সময় কাজে ফেরার প্রস্তুতি রয়েছে তাদের।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জের ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), তাঁর স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) এবং একই থানার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল জাকির বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।