তুমুল বিতর্কে পর পোস্টাল ব্যালটে পরিবর্তন আনছে ইসি

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬

বিএনপির দাবির পর দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পোস্টাল ব্যালটে শুধুমাত্র চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ও নির্বাচনি প্রতীক থাকবে। কোনো রাজনৈতিক দলের সব প্রতীক আর অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস), সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে আগের মতোই সব রাজনৈতিক দলের প্রতীক থাকবে। তবে দেশের ভেতরে যেসব ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন, তাদের ক্ষেত্রে কেবল সংশ্লিষ্ট আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ও প্রতীক সংবলিত ব্যালট ব্যবহার করা হবে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, দেশের অভ্যন্তরে নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য চূড়ান্ত প্রার্থী ও তাদের প্রতীকসহ পোস্টাল ব্যালট ছাপার বিষয়টি কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ জন্য আইন বা বিধিমালায় কোনো সংশোধনের প্রয়োজন নেই; একটি পরিপত্র জারির মাধ্যমেই বিষয়টি বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি পোস্টাল ব্যালটে দলের প্রতীক ধানের শীষ ছাপা থাকা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরে। বৈঠকে তারা দেশের অভ্যন্তরের পোস্টাল ব্যালটে শুধু প্রার্থীর নাম ও প্রতীক রাখার দাবি জানায়।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশে ও বিদেশে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। এর মধ্যে দেশের ভেতরে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৬ জন। এসব ভোটারের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী রয়েছেন ৫ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ জন, নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪২ জন, আনসার-ভিডিপি সদস্য ১০ হাজার ১০ জন এবং কারাবন্দি ভোটার ৬ হাজার ২৮৪ জন।

নতুন ডিজাইনের পোস্টাল ব্যালট ছাপার বিষয়ে বিজি প্রেস জানিয়েছে, চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ও প্রতীক হাতে পাওয়ার পর তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই ব্যালট ছাপা সম্ভব।

নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ জানুয়ারি প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং ২১ জানুয়ারি তাদের নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপরই পোস্টাল ব্যালট মুদ্রণ শুরু হবে এবং ডাক বিভাগের মাধ্যমে তা ভোটারদের কাছে পাঠানো ও ভোটগ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফেরত আনা হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com