বিশিষ্ট কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সম্পর্ক থাকা বাংলাদেশের জন্য একটি ভয়ংকর অশনিসংকেত। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সম্পর্ক দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য গভীর সংকেত বহন করে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দেশব্যাপী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট: নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
ফরহাদ মজহার অভিযোগ করেন, গাজায় তথাকথিত ‘স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ পাঠানোর প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী কোনো আপত্তি তোলেনি, যা তাদের অবস্থান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে। সম্প্রতি বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে বলা হয়েছে— যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক’ চায় এবং ভবিষ্যতে জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তারা শরিয়াহভিত্তিক কোনো ব্যবস্থা চাপিয়ে দিলে বা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ নিলে কী করা হবে, সে বিষয়েও কূটনৈতিকভাবে ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, এতে স্পষ্ট বোঝা যায় যে জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত একটি সম্পর্ক রয়েছে। তাই আগেভাগেই মার্কিন পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বড় ভূরাজনৈতিক শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর নয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণই তার উদাহরণ। তার মতে, বাংলাদেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলই কোনো না কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে আমরা কীভাবে টিকে থাকবো?” তিনি বলেন, তিনি যুদ্ধ চান না, কাউকে যুদ্ধে জড়াতে চান না; সাধারণ মানুষের মতো শান্তিতে ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে চান।
ভারতীয় আধিপত্য প্রসঙ্গে ফরহাদ মজহার বলেন, অনেকেই ভারতবিরোধী কথা বলেন, কিন্তু মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তুলনামূলকভাবে খুব কম আলোচনা হয়।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেজর (অব.) আহমেদ ফেরদৌস এবং কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ রোমেল। বক্তারা গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটসহ গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।