দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার এবং ২ কোটি ৭১ লাখ লিটারের বেশি সয়াবিন তেল ক্রয়ের পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে পবিত্র রমজান মাস সামনে রেখে ভোজ্য তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির (ডিপিএম) মাধ্যমে কানাডার এনএসআরআইসি গ্রিন সাপ্লাইস থেকে পরিশোধিত সয়াবিন তেল সংগ্রহের সুপারিশ অনুমোদন করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ কোটি ৭১ লাখ ৫০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল কেনা হবে। এতে প্রতি লিটার তেলের দাম পড়বে ১৩১ দশমিক ৪৯ টাকা।
এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১১তম লটের আওতায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্রানুলার ইউরিয়া সার সংগ্রহের প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৪৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০৫ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার।
সভায় ‘সার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন পায়। এর মধ্যে প্যাকেজ-২ এর আওতায় ফরিদপুরে প্রায় ৪৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি সারগুদাম এবং প্যাকেজ-৪-এর লট-৪ এর আওতায় গাইবান্ধায় প্রায় ৪৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একই ধারণক্ষমতার আরেকটি সারগুদাম নির্মাণ করা হবে।
এ ছাড়া রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জন্য প্রায় ৮৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে উচ্চগতির দুটি বৃহৎ নৌযান ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রোড সেফটি সংক্রান্ত তিনটি পৃথক ক্রয় প্রস্তাবেও অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।