ঘটনার সময় আসামি কারাগারে থাকলেও থানা ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে আসামির কারাগারে থাকার তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন বাতিল করেন।
গতকাল বুধবার শুনানি শেষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদ সাত্তার এ আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, নুর হোসেন নামের এক আসামি ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে নগরের আকবর শাহ থানার একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন। এ অবস্থায় পাহাড়তলী থানায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের একটি মামলায় তাকে জড়িত সন্দেহে চলতি মাসের ২২ জানুয়ারি আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন পাহাড়তলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুজ্জামান খান।
মামলাটির শুনানির দিন আসামির আইনজীবী আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, যে ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে, সেই সময় নুর হোসেন কারাগারে ছিলেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে আদালত চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন চায় এবং একই সঙ্গে আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে পরবর্তী শুনানিতে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন।
এরপর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কারাধ্যক্ষ সৈয়দ শাহ শরীফ আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনে জানান, নুর হোসেন ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত সীতাকুণ্ড থানার একটি মামলায় কারাগারে আটক ছিলেন। ওই সময়ের মধ্যেই, অর্থাৎ ৫ আগস্ট পাহাড়তলী থানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটে। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান এবং ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পুনরায় কারাগারে যান।
কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন বাতিল করেন। একই সঙ্গে এ ধরনের আবেদন করার আগে যথাযথ যাচাই না করার কারণ জানতে আবেদনকারী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেন আদালত।
আসামির আইনজীবী নয়ন মণি দাস বলেন, ঘটনার সময় আসামি কারাগারে ছিলেন—এটি প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। অন্যদিকে, পাহাড়তলী থানার এসআই আরিফুজ্জামান খান বলেন, তাড়াহুড়োর কারণে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আদালত যে কারণ ব্যাখ্যা চেয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি জবাব দেবেন বলে জানান।