ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন গত ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২৯৪টি আসনের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা ভোটে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ উপস্থিতির একটি রেকর্ড।
প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের মোট ১৬টি জেলার ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এ দফায় মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে একাধিক মন্ত্রী, বর্তমান ও সাবেক বিধায়কও ছিলেন। উল্লেখযোগ্য আসনগুলোর মধ্যে নন্দীগ্রাম অন্যতম, যেখানে প্রধান দুই দল তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র ছিল।
নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখ কর্মী দায়িত্ব পালন করেন। যদিও ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ছিল, তবুও মুর্শিদাবাদ, মালদা, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর ও বীরভূমে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ‘হিট স্ট্রোক’-এ চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃতদের বয়স ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফার ভোটের সময় তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং ২৫ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের সক্রিয় ভূমিকার কারণে ভোটার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এবারের ভোটদানের হার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে—২০১১ সালে যেখানে ভোট পড়েছিল ৮৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৮২.৬৬ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৮১.৫৬ শতাংশ, সেখানে এবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটদানের হার পৌঁছেছে ৮৯.৮৩ শতাংশে।
এদিকে, উচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে ধারণা করা হচ্ছে, ১৫২টি আসনের প্রায় অর্ধেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে এবং চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।