উজবেকিস্তানের সমরখন্দে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী জামশিদ খোদজায়েভ-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উজবেকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
৩ থেকে ৬ মে পর্যন্ত সমরখন্দে অনুষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এর বোর্ড অব গভর্নরসের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। বুধবার উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানায়।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানানোর জন্য উজবেকিস্তান সরকার এবং বিশেষ করে দেশটির প্রেসিডেন্ট শাওকাত মির্জিওয়েভ-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বাণিজ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ঢাকা-তাশখন্দ রুটে Uzbek Airways-এর ফ্লাইট পুনরায় চালুর অনুরোধ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশে একটি উজবেক কূটনৈতিক মিশন খোলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ ও পাটজাত পণ্যের জন্য উজবেকিস্তানের বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার এবং বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানান।
উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি উজবেক প্রেসিডেন্ট শাওকাত মির্জিওয়েভকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
উজবেকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী জামশিদ খোদজায়েভ বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাণিজ্য, কৃষি ও পর্যটন খাতে অমীমাংসিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের বস্ত্র ও ওষুধ শিল্পের অগ্রগতির প্রশংসা করে দ্রুত একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে পাঠানোর আশ্বাস দেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-উজবেকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে।