হঠাৎ বেড়ে গেছে পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে এই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে খুচরা বাজারে কেজি ১৩০ টাকায় পৌঁছেছে। হঠাৎ এমন উল্লম্ফন দেখে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা বাজার তদারকির অভাব ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকেই দায়ী করছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েকদিন আগেও ৬০–৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ এখন ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি পর্যায়েও কেজি ৮০–৯০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
শ্যামবাজারের পাইকারি আড়তে দেখা যায়, পেঁয়াজের মজুত রয়েছে যথেষ্ট। তবে আড়ৎদাররা বলছেন, মৌসুম শেষে সরবরাহ কিছুটা কমে গেছে, ফলে বাজারে চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। তাদের দাবি, এর সঙ্গে কোনো সিন্ডিকেট জড়িত নয়।
এক আড়ৎদার বলেন, “বর্তমানে পুরনো পেঁয়াজের মজুত ফুরিয়ে আসছে। নতুন পেঁয়াজ উঠতে আরও সপ্তাহ দুই সময় লাগবে। তখন বাজারে দাম কমে আসবে।”
অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। এক গৃহিণী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতি বছরই এই সময় পেঁয়াজ নিয়ে নাটক হয়। সরকার দেখেও কিছু করে না।”
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছর (২০২৫–২৬)-এর জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার টন। অথচ গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল প্রায় ২ লাখ ৪৬ হাজার টন। ফলে আমদানির ঘাটতিও বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
আড়ৎদারদের ধারণা, নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দেশে নতুন পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।