জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি পাওয়া কেন্দ্রীয় সংগঠক মুনতাসির মাহমুদ অভিযোগ করেছেন যে, ছাত্র উপদেষ্টারা ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের স্বার্থ বিক্রি করে দিয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে লাইভে এসে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সব উপদেষ্টাদের মধ্যে ছাত্র উপদেষ্টারাই সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছে। তারা দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন।”
লাইভ শুরুর আগে তিনি এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে ১ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। পরে লাইভে এসে মুনতাসির জানান, ৫ আগস্টের পর অভিযোগ বা কোনো বিষয়ে উপদেষ্টাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে অধিকাংশকে ছাত্র উপদেষ্টাদের কাছে পাঠানো হতো। তাদের অনুমতি ছাড়া কারও সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হতো না। তার ভাষায়, ছাত্র উপদেষ্টাদের হাতে ছিল ‘অ্যাবসুলেট পাওয়ার’।
তিনি আরও বলেন, “ডিসি, ওসি নিয়োগ—এমনকি এসেনশিয়াল ড্রাগস বা পেট্রোবাংলার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের এমডি বসানো, কোটি কোটি টাকা লেনদেন—সবকিছুতেই তাদের প্রভাব ছিল। তারা জুলাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করেছে এবং দেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”
লাইভে মুনতাসির এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, জেলা পর্যায়ে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দিতে আখতার ৫০ লাখ টাকা করে দাবি করেছেন। মুনতাসির জানান, নরসিংদীর শিরিন আক্তার শেলীকে পিপি করার প্রস্তাব তিনি দিয়েছিলেন, যিনি আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। কিন্তু আখতারের ঘনিষ্ঠরা টাকা নেওয়ার বিনিময়ে অন্য এক নারীর নাম যুক্ত করে শিরিন আক্তারের নাম বাদ দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি বিচার বিবেচনায় এনে আসিফ নজরুল তাকে পিপি হিসেবে নিয়োগ দেন।
মুনতাসির অভিযোগ করেন, শিরিন আক্তার পিপি হওয়ার পর আখতারের পিএস আতিক মুন্সিকে খুশি হয়ে এক লাখ টাকা দিলে আখতার ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ফোন করে আরও ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন এবং তাকে ‘নাম কেটে দেওয়ার’ হুমকিও দেন।
এসব তথ্য প্রকাশ করায় নিজের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন মুনতাসির। তবে তিনি বলেন, এনসিপির অন্যান্য দুর্নীতিবাজ নেতাদের বিরুদ্ধেও ধাপে ধাপে তথ্য প্রকাশ করবেন।