জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সানায়ে তাকাইচি কঠোর পরিশ্রমের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিরতিহীনভাবে কাজ করে চলছেন। ২১ অক্টোবর পার্লামেন্টে ভোটে জেতার পর তাঁর নেতৃত্বে নতুন উদ্যম তৈরি হলেও, বিশ্রাম ও ঘুম ছাড়া এই অস্বাভাবিক কর্মচাপ নিয়ে জাপানজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
৭ নভেম্বর ভোররাত ৩টায় নিজের প্রথম পার্লামেন্টারি বিতর্কের প্রস্তুতি নিতে কার্যালয়ে উপস্থিত হন তাকাইচি। সকাল ৯টায় বাজেট কমিটির বিতর্ক শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তিনি ছয় ঘণ্টা আগেই কাজে নেমে পড়েন। ‘কাজপাগল’ জাতি হিসেবে পরিচিত জাপানিদের মধ্যেও এই ঘটনা বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। সরকারি কর্মকর্তারাও ব্যক্তিগতভাবে এমন সময়সূচিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করছেন। এমনকি পার্লামেন্টের কয়েকজন আইনপ্রণেতাও বৈঠকে এই বিষয়ে উদ্বেগ তুলে ধরেছেন।
তাকাইচি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তিনি এখনো প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ওঠেননি এবং বর্তমান আবাসস্থলে পর্যাপ্ত লজিস্টিক সুবিধা—বিশেষ করে একটিমাত্র পুরোনো ফ্যাক্স মেশিন—বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি জানিয়েছেন, রাতে তিনি সাধারণত মাত্র দুই থেকে চার ঘণ্টা ঘুমাতে পারেন। তবে শিগগিরই সরকারি বাসভবনে ওঠার পরিকল্পনাও জানিয়েছেন তিনি। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ২২–২৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জি–২০ সম্মেলনের প্রস্তুতি শেষ করতে হবে।
তবু সমালোচনা থামছে না। বিরোধী দলের সদস্যরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী রাত ৩টায় কাজে নামলে কর্মীরাও রাতজাগা শিডিউলে বাধ্য হবেন। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে এবং দেশের শ্রমসংস্কৃতি আরও বিপন্ন হতে পারে। জাপানি সমাজে ‘কারোশি’—অতিরিক্ত কাজের কারণে মৃত্যুর—ইতিহাস বিবেচনায় অনেকেই বিষয়টিকে বিপজ্জনক উদাহরণ বলে মনে করছেন। এলডিপির একাধিক আইনপ্রণেতাও তাকাইচিকে সুযোগ পেলেই বিশ্রাম নিতে অনুরোধ করেছেন।
সরকারি মুখপাত্র মিনোরু কিহারা দাবি করেন, প্রথম পার্লামেন্ট অধিবেশনের নিখুঁত প্রস্তুতির জন্যই তাকাইচি অতিরিক্ত সময় ব্যয় করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কাজ ও জীবনের ভারসাম্যের গুরুত্ব অস্বীকার করেন না, এবং কর্মপরিবেশ সুরক্ষায় সরকার দরকারি পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তাকাইচি এরই মধ্যে বলেছেন, তিনি ‘কাজ, কাজ এবং কাজ’—এই নীতিতে বিশ্বাসী। চারজন পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে এলডিপির নেতৃত্ব পাওয়া তাঁর কাছে দায়িত্ব ও প্রতিশ্রুতির বিষয়। তাঁর মন্তব্যে অনেক কর্মজীবী নারী অনুপ্রাণিত হলেও সবাই একমত নন। উইমেন টাইপ নামের একটি ওয়েবসাইটের জরিপে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ৫৩ শতাংশ নারী তাঁর বক্তব্যকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করলেও ২৯ শতাংশ নারীর মতে, এর ফলে কাজ–জীবন ভারসাম্যের গুরুত্ব কর্মক্ষেত্রে আরও উপেক্ষিত হওয়ার ঝুঁকি আছে।
সব মিলিয়ে, জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী একদিকে কঠোর পরিশ্রমের প্রতীক হয়ে উঠছেন, অন্যদিকে তাঁর কর্মশৈলী দেশের শ্রমসংস্কৃতি নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি করছে—যা আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে।