সাম্প্রতিক :
১৭ বছর পর লন্ডন থেকে এক মুফতি এসেছে দেশে, তারেক রহমানকে নিয়ে জামায়াত প্রার্থীর কটাক্ষ ছেলে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী, বাবা মাঠে ধানের শীষে বিশ্বকাপ না খেলায় বাংলাদেশের ‘লস’ হবে ৩৩০ কোটি টাকা! জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সম্পর্ক অশনিসংকেত: ফরহাদ মজহার এবার সংসদ নির্বাচনে লড়ছেন ১৯৮১ প্রার্থী পিনাকী ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারির আর্জি বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার সরিয়ে নিতে ভারতের সিদ্ধান্তে যা বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা নির্বাচনের ছুটি পাবেন না যেসব সরকারি চাকরিজীবী বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না বাংলাদেশ: আসিফ নজরুল জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক হলেন সাখাওয়াত টিপু

চাকরিচ্যুত ৫ ক্যাডার কর্মকর্তা, প্রশাসনে তোলপাড়

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫

তিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পাঁচ ক্যাডার কর্মকর্তাকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৪৩তম ব্যাচের তিন শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনার এবং নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারের একই ব্যাচের আরও দুই কর্মকর্তাকে সাম্প্রতিক দুই দিনে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চাকরিচ্যুত করা হয়।

চাকরিচ্যুতদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার কাজী আরিফুর রহমান, বগুড়ার সহকারী কমিশনার অনুপ কুমার বিশ্বাস, পিরোজপুরের সহকারী কমিশনার নবমিতা সরকার, ফিন্যানশিয়াল ম্যানেজমেন্ট একাডেমির সহকারী মহাহিসাবরক্ষক সোহানুর রহমান সরকার এবং কায়সার মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বিষয়টি ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, কোনো কারণ উল্লেখ বা শুনানির সুযোগ না দিয়ে সরাসরি চাকরিচ্যুতি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে আচরণবিধি লঙ্ঘন বা দলীয় প্রভাবের মাধ্যমে সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তারাও এখন চাকরি হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস নিয়োগ বিধিমালা, ১৯৮১–এর বিধি ৬(২)(এ)-এর আওতায় শিক্ষানবিশ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়োগ অবসান করা হয়েছে। তাঁদের কাছে সরকারের কোনো পাওনা থাকলে তা পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট, ১৯১৩ অনুযায়ী আদায়যোগ্য হবে।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর একই ব্যাচের চারজন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চাকরিচ্যুত করে। নিয়োগের সময়ও ৪৩তম ব্যাচ থেকে অন্তত ৬৭ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, আর পরবর্তীতে বিভিন্ন ক্যাডারের ১৩ জনকে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত হয়।

চাকরি হারানো কর্মকর্তাদের দাবি, চাকরিচ্যুতির কারণ সম্পর্কে কেউই কোনো নোটিশ পাননি। তাঁদের দুজন জানান, ছাত্রজীবনে আবাসিক হলে থাকার কারণে বাধ্য হয়েই মিছিল–মিটিংয়ে অংশ নিতে হয়েছিল। এখন সেই অভিজ্ঞতাকে ‘অযোগ্যতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হলে তা বৈষম্যমূলক। তাঁরা এ বিষয়ে ন্যায়বিচার আশা করছেন।

সংবিধানের ১৩৫(২) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, কাউকে বরখাস্ত বা অপসারণের আগে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে। আর নিয়োগ বিধিমালায় শিক্ষানবিশ কর্মকর্তাকে অযোগ্য বলে বিবেচিত হলে সরকার পিএসসির সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া নিয়োগ বাতিল করতে পারে—যা এই সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, অতীতে এমন সিদ্ধান্ত আদালতে স্থায়ী হয়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে চাকরিচ্যুতি বৈধ, তবে কারণ ছাড়া অপসারণ ন্যায়বিচারের বিরোধী। ভুক্তভোগীরা চাইলে সংবিধান অনুযায়ী আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com