কিটক্যাট চকোলেট ও চিনিতে ক্ষতিকর উপাদান, নেসলে-মেঘনা গ্রুপের এমডির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫

দেশে নিম্নমানের ও ক্ষতিকর খাদ্যপণ্য উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতের অভিযোগে নেসলে বাংলাদেশ এবং মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকার নিরাপদ খাদ্য আদালত। সোমবার দুটি পৃথক মামলায় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বিথী এ আদেশ দেন। মামলাগুলো করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান, যিনি জানান—সরকারি পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণ পাওয়ায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

নেসলে বাংলাদেশকে নিয়ে দায়ের করা মামলায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপাল আবে বিক্রমা ও পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই ‘নিম্নমানের’ কিটক্যাট চকলেট-কোটেড ওয়েফার বাজারজাত করছে প্রতিষ্ঠানটি। সরকারি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষায় দেখা যায়—ওয়েফারে অ্যাসিডিটির পরিমাণ ২.৩২ শতাংশ, যেখানে মানদণ্ড সর্বোচ্চ ১ শতাংশ। চকলেট আবরণে দুধের কঠিন পদার্থ পাওয়া যায় ৯.৩১ শতাংশ, যা অনুমোদিত ১২–১৪ শতাংশ সীমার নিচে। দুধের ফ্যাটের পরিমাণ পাওয়া যায় ১.২৩ শতাংশ, যেখানে মানদণ্ড ২.৫–৩.৫ শতাংশ।

খাদ্য পরিদর্শক কামরুল বলেন, উচ্চ অ্যাসিডিটি পণ্যের পচন নির্দেশ করে এবং কম দুধের উপাদান মানে দুগ্ধজাত পণ্য হিসেবে বাজারজাত করা হলেও এতে দুধের উপস্থিতি যথেষ্ট নয়।

অন্য মামলায় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, মেঘনা সুগার রিফাইনারির উৎপাদিত চিনিতে অনুমোদিত ৯৯.৭০ শতাংশ সুক্রোজের পরিবর্তে পাওয়া যায় মাত্র ৭৭.৩৫ শতাংশ। পাশাপাশি পরীক্ষায় শনাক্ত হয় ০.০৮ পিপিএম সালফার ডাই-অক্সাইড, যা বিএসটিআই মানদণ্ড অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। খাদ্য পরিদর্শক কামরুল জানান, সালফার ডাই-অক্সাইড কৃত্রিমভাবে চিনি সাদা করতে ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভ, আর কম সুক্রোজ মানে কৃত্রিম সুইটেনার ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে নেসলে বাংলাদেশের কোম্পানি সচিব দেবব্রত রায় চৌধুরী বলেন, কিটক্যাটের জন্য বিএসটিআই আলাদা মানদণ্ড তৈরি করেনি, তাই এতে বিএসটিআই সিল দেওয়া হয় না। তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটি দুবাই ও ভারত থেকে কিটক্যাট আমদানি করে এবং প্রতিটি চালান বিসিএসআইআর পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে কাস্টমস ছাড়পত্র পায়। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, মামলা করার আগে নেসলের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি।

মেঘনা গ্রুপের জনসংযোগ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আগামী ১৫ ডিসেম্বর মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে নিরাপদ খাদ্য আদালত।

এদিকে কিটক্যাটের মতো বিশ্বব্যাপী সমাদৃত একটি পণ্যের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠায় ভোক্তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত কোম্পানি যদি নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করে, তাহলে ভোক্তারা আস্থা রাখবে কোথায়। অনেকেই নেসলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com