কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত সহিংসতায় নিহতদের ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত সরকারি গেজেটে ব্যাপক জালিয়াতি, ভুল তথ্য ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে অসঙ্গতি নিয়ে প্রশ্ন বাড়তে থাকে।
মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ সংশোধিত গেজেট (৩ আগস্ট ২০২৫) অনুযায়ী ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে মোট ৮৩৬ জনকে। এর আগে ১৫ জানুয়ারি ২০২৫–এ ৮৩৪ জনের নাম প্রকাশ করা হয়, পরে ৩০ জুন আরও ১০ জন যোগ করা হয় এবং ৩১ জুলাই বাদ দেওয়া হয় ৮ জনের নাম। কিন্তু তালিকার সঙ্গে বাস্তবতার বিশাল গরমিল প্রকাশ্যে এলে গেজেটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “অচেনা একজন” নামের এক ব্যবহারকারী গেজেটের পিডিএফ বিশ্লেষণ করে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন, তাতে উঠে আসে গুরুতর অনিয়মের তথ্য। বিশ্লেষণ অনুযায়ী—
একই ব্যক্তির নাম ভিন্ন বানান বা আলাদা পরিচয়ে একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
অনেকের মৃত্যুর তারিখ, স্থান ও পরিচয়ে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভুয়া নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে।
নিহত পুলিশ, আনসার ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নামও তালিকায় তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমে ৪ হাজার, পরে ৩ হাজার, এরপর ২ হাজার এবং সর্বশেষ প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ৫ আগস্ট দাবি করেন যে সহিংসতায় “প্রায় ১ হাজার” মানুষ নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ১৬ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৪০০ জন বলে উল্লেখ করা হয়, যেখানে আন্দোলনকারী ছাড়াও নিহত পুলিশ, আনসার ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি গেজেটে এত বড় মাত্রার ভুল, জালিয়াতি ও তথ্য গরমিল প্রমাণ করে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’র অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অতিরঞ্জিতভাবে সামনে আনা হয়েছে। তাদের দাবি, ভুয়া ও বিকৃত তালিকা ব্যবহার করে দেশে–বিদেশে একটি ভ্রান্ত ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য দেয়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য–প্রমাণ ছড়িয়ে পড়ায় জুলাই–আগস্ট ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।
“জুলাই শহীদ” তালিকার জালিয়াতির প্রমাণ: গুগল ড্রাইভ লিংক
(লিংক ব্যবহারকারীর প্রদত্ত তথ্য হিসেবে উল্লেখযোগ্য)