বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে শরিফ ওসমান হাদিকে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কবির পরিবারের সদস্যরা। তারা এই সিদ্ধান্তকে অনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে বলেছেন, এতে জাতীয় কবির মর্যাদা ও উত্তরাধিকারকে অসম্মান করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে হাদিকে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর শনিবার (২০ ডিসেম্বর) কবির নাতনি সোনালি কাজী ও নাতি স্বরূপ কাজী গণমাধ্যমে তাদের আপত্তির কথা জানান। তারা বলেন, এই কবরস্থানে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসারে কেবল বিশেষ কয়েকজন ব্যক্তিকেই সমাধিস্থ করা হয়। দেশে অসংখ্য জায়গা থাকা সত্ত্বেও নজরুল ইসলামের সমাধির একেবারে পাশে হাদিকে দাফনের সিদ্ধান্তের পেছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
সোনালি কাজী বলেন, নজরুল ইসলাম তাঁর জীবনের শেষ সময় বাংলাদেশে কাটিয়েছেন এবং এতদিন পরিবারও দেশে সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করেছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, ওই কবরস্থানে সবাইকে সমাধিস্থ করা হয় না। অথচ ছায়ানট ভাঙচুর, রবীন্দ্রনাথের বই পোড়ানোর মতো উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত একজনকে নজরুলের সমাধির পাশে দাফন করা হলো। নজরুল যে সম্প্রীতি, মানবতা ও সাম্যের কথা বলে গেছেন, সেই কবির সমাধির পাশে এমন একজনকে সমাধিস্থ করা সরকারের নির্দেশে হয়েছে বলেই তাদের ধারণা।
কবির পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে নজরুল ইসলামের সমাধির নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। সোনালি কাজী বলেন, পৃথিবীতে ভালো মানুষের জায়গা কি ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে—এই প্রশ্ন এখন তাদের সামনে। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের মতো কবিদের আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অস্বীকার করবে কি না, সেই আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে জাতীয় কবিকে যেন কোনোভাবেই অসম্মান করা না হয়, সে আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সিদ্ধান্তে তাদের কোনো আস্থাই নেই। পুরো পরিবার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং গভীর মর্মবেদনায় দিন কাটাচ্ছে।
হাদির জানাজায় হাজারো মানুষের উপস্থিতি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের মধ্যেই এই সমাধিস্থলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কবির পরিবারের মতে, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নজরুল ইসলামের উত্তরাধিকার, আদর্শ ও সম্প্রীতির বার্তাকে চ্যালেঞ্জ করার একটি উদ্যোগ।