জাপান ও মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশের নেতারা অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘টোকিও ঘোষণা’ গ্রহণ করেছেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে এবং কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের নেতারা শুক্র ও শনিবার টোকিওতে অনুষ্ঠিত শীর্ষসম্মেলনে অংশ নেন। এটি জাপান ও মধ্য এশিয়ার পাঁচ দেশের মধ্যে প্রথম শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক।
শনিবার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, জাপান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে প্রথম শীর্ষসম্মেলন আয়োজন করতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। তিনি জানান, গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে উভয় পক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়সহ বিভিন্ন স্তরে নিয়মিত সংলাপ ও বৈঠক করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে এবং তারা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে এশিয়া ও ইউরোপকে সংযুক্তকারী বাণিজ্যিক যোগাযোগপথ হিসেবে এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, মধ্য এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘোষণাপত্রে বলা হয়, নেতারা পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাস্তবসম্মত সহযোগিতা সম্প্রসারণে একসঙ্গে কাজ করবেন। এতে উল্লেখ করা হয়, জাপান আগামী পাঁচ বছরে মধ্য এশিয়ায় মোট ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়িক প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
নেতারা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছেন। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতার জন্য একটি নতুন অংশীদারিত্ব শুরু করার বিষয়েও একমত হন তারা।
ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়, মধ্য এশিয়া ও ইউরোপকে সংযুক্তকারী ‘আন্ত-ক্যাস্পীয় আন্তর্জাতিক পরিবহণ যাত্রাপথ’ সম্পর্কিত সহযোগিতা প্রচার ও সম্প্রসারণে নেতারা সম্মতি দিয়েছেন।
এছাড়া আইনের শাসনের ভিত্তিতে একটি অবাধ ও উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।