খালেদা জিয়ার ৩টি আসনে বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রেখেছে বিএনপি

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মধ্যেই জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনয়ন তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। দলীয় সূত্র জানায়, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সম্ভাব্য তিনটি আসনে বিকল্প প্রার্থী প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের জরিপ, দলীয় অসন্তোষ ও জোটগত সমীকরণ বিবেচনায় নিয়ে ‘ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত’ করতেই এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।

বিএনপি সূত্র অনুযায়ী, খালেদা জিয়া বগুড়া, দিনাজপুর ও ফেনীর তিনটি আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে প্রতিটি আসনেই বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে দল জানিয়েছে।

ফেনী-১ (ফুলগাজী–পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওই আসনের নির্বাচন সমন্বয়ক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম (মজনু)কে। প্রয়োজনে তিনিই সেখানে দলের প্রার্থী হতে পারেন। বগুড়া-৭ (গাবতলী) আসনে বিকল্প হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম। দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন নিয়েছেন সাবেক পৌর মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তারা দুজনই জানিয়েছেন, দলীয় নির্দেশনায় নিজেদের জন্যও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী পরিকল্পনাও চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বগুড়া-৬ (সদর) আসনের পাশাপাশি ঢাকা-১৭ (গুলশান–বনানী–ক্যান্টনমেন্ট) আসন থেকেও নির্বাচন করবেন। ঢাকা-১৭ আসনের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম। আগে এই আসনে জোটপ্রার্থী হিসেবে প্রচার শুরু করা আন্দালিভ রহমান পার্থ এখন ভোলা সদর আসন থেকে নির্বাচন করবেন।

মনোনয়ন তালিকায় সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন এসেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে। ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী সাইফুল আলম নীরবের পরিবর্তে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি ‘কোদাল’ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ব্যবসায়ী মো. মাসুদুজ্জামানের অনীহার পর সেখানে বিএনপির সাবেক মহানগর সভাপতি আবুল কালামকে প্রার্থী করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের একাধিক আসনে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। রাউজান (চট্টগ্রাম-৬) আসনে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবর্তে গোলাম আকবর খন্দকারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সম্প্রতি সেখানে দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান পদ স্থগিত করা হয় এবং তার নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমানের সঙ্গে সাম্প্রতিক মতবিনিময় সভাতেও তাকে ডাকা হয়নি।

চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি আগে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুকের জন্য রাখা হলেও এলডিপি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ায় সেখানে বিএনপির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিমউদ্দিনকে প্রার্থী করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-৪ আসনে কাজী সালাহউদ্দিনের বদলে আসলাম চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম-১১ থেকে সরিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চট্টগ্রাম-১০ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান।

উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানের ঋণখেলাপি জটিলতার কারণে সেখানে বিএনপির নেতা মীর শাহে আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমানের বদলে কবির আহমেদ ভূঁইয়াকে প্রার্থী করা হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে একমি গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিনহার পরিবর্তে কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে কামরুজ্জামান রতনের বদলে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মহিউদ্দিন আহমেদ মনোনয়ন পেয়েছেন।

ঝিনাইদহ-১ আসনে সদ্য পদত্যাগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানকে প্রার্থী করা হয়েছে। নড়াইল-২ আসনে বিএনপির প্রার্থীর পরিবর্তে জোটসঙ্গী ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মনোনয়ন পেয়েছেন। যশোর-১, যশোর-৫ ও যশোর-৬ আসনেও নতুন প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। মাদারীপুর-১ আসনে কামাল জামাল মোল্লার বদলে নাদিরা আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি দুই দফায় ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করলেও পরে মিত্র দলগুলোর জন্য আরও ১৫টি আসন ছেড়ে দেয়। বাকি আসনগুলোর মনোনয়ন চূড়ান্ত হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, তার জানা মতে ৩০০ আসনের মনোনয়নই চূড়ান্ত। তবে প্রতিদিন একাধিক পরিবর্তনের কারণে একসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসে, ততই বাস্তবতা ও সমীকরণ বদলায়। পরিস্থিতি অনুযায়ী শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com