নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই একটি আনসার ক্যাম্পে ভয়াবহ, পরিকল্পিত ও রাষ্ট্রবিরোধী হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুড়ি তিস্তা নদী পুনর্খনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এ হামলায় আনসার ক্যাম্পে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটতরাজ চালানো হয়। এ সময় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ব্যবহৃত ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছিনতাই করা হয়। ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে সরকারি ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বুড়ি তিস্তা নদী সংলগ্ন আনসার ক্যাম্প ও নদী খনন প্রকল্প এলাকায় এ সহিংসতা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খনন কাজের প্রস্তুতি নিলে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালে সরকারি ছুটির দিনে কাজের প্রস্তুতি নেওয়ায় সংবাদকর্মী ও স্থানীয়দের আপত্তির মুখে পাউবো সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে পরিস্থিতি শান্ত না হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তা সংঘবদ্ধ সহিংসতায় রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কোনো আকস্মিক উত্তেজনা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিত ও সংগঠিত হামলা। সন্ধ্যার দিকে আলীম নামের এক ব্যক্তি মাইকিং করে লোকজন জড়ো করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজারের বেশি মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে আনসার ক্যাম্পে হামলা চালায়।
আনসার ক্যাম্পে কর্মরত সদস্য মো. এনামুল হক জানান, হামলাকারীরা আনসার সদস্যদের থাকার কক্ষ, অফিস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ক্যাম্পে সংরক্ষিত রেশন সামগ্রী, আনসার সদস্যদের পোশাক ও ব্যক্তিগত মালামাল লুট করা হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ব্যবহৃত ১০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছিনতাই করা হয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
পুলিশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বুড়ি তিস্তা নদী খনন প্রকল্পে ব্যবহৃত সাতটি এক্সকাভেটর ভাঙচুর করে অচল করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিক হামলার শিকার হন। আহতদের মধ্যে সাংবাদিক, আনসার সদস্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান বলেন, হামলা ও ভাঙচুরে প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এটি একটি গুরুতর অপরাধ এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া, পিভিএম বলেন, আনসার সদস্যদের গুলি, রেশন ও পোশাক ছিনতাই করা হয়েছে, যা বাহিনীর নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত।
নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম পিপিএম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ছিনতাইকৃত গুলি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।