দেশজুড়ে কয়েকদিন ধরে শীতের দাপট অব্যাহত রয়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ১৭ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাবে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে জানানো হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। একই সঙ্গে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, যার একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বরিশাল ও ভোলা জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় এ শৈত্যপ্রবাহ সাময়িকভাবে প্রশমিত হতে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে সোমবার (৫ জানুয়ারি) পর্যন্ত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। এ সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা কখনো সামান্য বাড়তে, কখনো অপরিবর্তিত থাকতে পারে, আবার শেষদিকে কিছুটা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। ফলে শীতের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।