জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে নববর্ষের বার্তায় প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে তিনি জাপানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশা জাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নববর্ষের বার্তায় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, চলতি বছরে জাপানের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শোওয়া যুগের সূচনার ১০০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ১৯২৬ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই যুগে জাপান অভূতপূর্ব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে বলে তিনি স্মরণ করেন।
তাকাইচি বলেন, শোওয়া যুগ ছিল এমন এক সময়, যখন জাপান যুদ্ধ, যুদ্ধের অবসান, দেশ পুনর্গঠন এবং দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ নানা গভীর পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া বর্তমান রেইওয়া যুগেও জাপান ও বিশ্ব উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় জাপান বর্তমানে জনসংখ্যা হ্রাস, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং যুদ্ধোত্তর সময়ের সবচেয়ে গুরুতর ও জটিল নিরাপত্তা পরিবেশের মুখোমুখি।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী অবাধ ও মুক্ত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে আধিপত্যবাদী প্রবণতা শক্তিশালী হচ্ছে এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
এই চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পরিবর্তনকে ভয় না পাওয়ার অঙ্গীকার করে তাকাইচি সানায় বলেন, তিনি প্রয়োজনীয় সংস্কার দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নেবেন। জাপানের জনগণের উদ্দেশে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জাপানি দ্বীপপুঞ্জকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলা হবে এবং এর মাধ্যমে জাতিকে নতুন আশার পথ দেখানো হবে।