সাম্প্রতিক :
কারাবন্দী সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন মারা গেছেন উন্নয়নে নজর নেই, তবু বাড়ছে বিদেশি ঋণ: অর্থনীতি ঝুঁকিতে স্ত্রীকে দেখতে এসে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হামলার শিকার, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ রয়টার্সকে তারেক রহমান, জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকারে যাবে না বিএনপি শাহবাগে পুলিশ-ইনকিলাব মঞ্চ ফের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত ২০ ফেব্রুয়ারি শুরু অমর একুশে বইমেলা ‘ব্যালটের সিল বানানোর ঘটনায় জামায়াত নেতা জড়িত’—আদালতে সোহেলের স্বীকারোক্তি প্যারোলে মুক্তি মেলেনি, আওয়ামী লীগ কর্মীর বাবার মরদেহ এলো কারাগারে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই: সেনাপ্রধান এলপি গ্যাসের দাম বাড়লো, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর

রাজধানীতে এক বছরে ৬৪৩ বেওয়ারিশ লাশ

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬

২০২৫ সালে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া মোট ৬৪৩টি অজ্ঞাতপরিচয় লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন কবরস্থান ও শ্মশানে দাফন ও সৎকার করা হয়েছে। এর মধ্যে রায়েরবাজার কবরস্থানে ৪৬১ জন, জুরাইন কবরস্থানে ১৭৫ জন এবং পোস্তগোলা শ্মশানে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী সাতজনের মরদেহ দাহ করা হয়। গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৫৪টি এবং প্রতিদিন প্রায় দুইটি অজ্ঞাতপরিচয় লাশ দাফন ও সৎকার করা হয়েছে। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল ৫৭০টি লাশ। সে হিসাবে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়েছে ৭৩টি। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘাত ও সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে যত্রতত্র লাশ উদ্ধারের ঘটনা বেড়েছে।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ মাসে দেশে মোট চার হাজার ৭৩২টি হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন থানায় প্রতি মাসে গড়ে প্রায় আড়াই হাজার অপমৃত্যুর মামলাও নথিভুক্ত হচ্ছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মোহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় শনাক্ত করা না গেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা দাফনের জন্য আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে লাশ সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতার কারণে এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা অনুসরণ করা সম্ভব হয় না।

মানবাধিকার সাংস্কৃতিক সংগঠন (এমএসএফ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে খুব অল্পসংখ্যক অজ্ঞাতপরিচয় লাশ শনাক্ত করা সম্ভব হলেও অধিকাংশের পরিচয় অজানাই থেকে গেছে। সংগঠনটির মতে, শুধু লাশ উদ্ধার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; পরিচয় শনাক্ত করে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ৫১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪ জন, মার্চে ৫৭ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৫৩ জন, জুনে ৬০ জন, জুলাইয়ে ৭০ জন, আগস্টে ৪৫ জন, সেপ্টেম্বরে ৫৯ জন, অক্টোবরে ৭২ জন, নভেম্বরে ৬৯ জন এবং ডিসেম্বরে ৩৪ জনের লাশ দাফন করা হয়। একই বছরে পোস্তগোলা শ্মশানে বিভিন্ন সময়ে সাতজনের মরদেহ দাহ করা হয়।

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম সূত্র জানায়, ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে সংস্থাটি মোট ১৪ হাজার ৮৭৬টি বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন করেছে। সংস্থাটির দাফনসেবা কর্মকর্তা কামরুল আহমেদ জানান, পুলিশের ক্লিয়ারেন্স ছাড়া কোনো মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয় না এবং এ কাজে কোনো অর্থ নেওয়া হয় না।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী অনেক সময় লাশ উদ্ধারেই দায়িত্ব শেষ মনে করে। অথচ সুরতহাল, ময়নাতদন্ত এবং পরিচয় শনাক্তের মাধ্যমে মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী ও খালগুলো অপরাধীদের কাছে যেন লাশ ফেলার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

পিবিআই ও নৌপুলিশ কর্মকর্তারা জানান, পরিচয় শনাক্তে তথ্য-প্রমাণের অভাব, নিখোঁজ সংক্রান্ত বিলম্বিত অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় ডেটাবেইসের ঘাটতির কারণে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও ভবঘুরে মানুষের এনআইডি না থাকায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর পল্লবী ও তুরাগ এলাকার জলাশয় থেকে উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশের পরিচয়ও এখনো শনাক্ত হয়নি। পুলিশ ধারণা করছে, হত্যার পর লাশ ফেলে দেওয়া হয়েছে। পরিচয় না মিললে এসব লাশও বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের জন্য হস্তান্তর করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার, দক্ষ তদন্ত টিম এবং সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় লাশের রহস্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com