নির্বাচন কমিশনে (ইসি) একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশের পাশাপাশি নৌবাহিনী, র্যাব ও আনসার বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। ইসি ভবনের সামনে রায়ট কার ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্বাচন ভবনের সামনে ও আশপাশের সড়কে শত শত ছাত্রদল কর্মী অবস্থান নেন। তারা ইসির নিরাপত্তা বেষ্টনীর বাইরে থেকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম।
ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ করেন, পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে কমিশন দায়িত্বশীল ও যুক্তিসংগত সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এ ছাড়া বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করে ছাত্রদল। তাদের মতে, এটি দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ব্যালট পেপার সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঘটনায় একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা গেছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভেতরে বসে থাকা ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ ইন্ধনেই এসব কর্মকাণ্ড ঘটেছে। যদিও কমিশন সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে, এরপরও একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে, যা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের ইচ্ছার প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাহরাইনে একটি ঠিকানায় একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ব্যাখ্যা দেয়। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ পোস্টাল ব্যালট পাঠায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের পোস্টাল ব্যবস্থায় ভিন্ন ধরনের ডেলিভারি পদ্ধতি রয়েছে।
তিনি বলেন, বাহরাইনের ক্ষেত্রে প্রায় ১৬০টি ব্যালট একটি নির্দিষ্ট স্থানে একটি বক্সে রাখা হয়েছিল। হোস্টেলের মতো একটি নির্ধারিত জায়গা থেকে প্রবাসী ভোটাররা নিজেদের ব্যালট সংগ্রহ করেন। ব্যালট হাতে পাওয়ার আনন্দ থেকেই কেউ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলে কমিশন জানতে পেরেছে।
তবে নির্বাচন কমিশনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় ছাত্রদল। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।