বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে কানিজ সুর্বনা স্বর্ণালী নামে এক নারী ও তার ৯ মাসের শিশু সন্তান নাজিম হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বর্ণালীর মরদেহ এবং পাশে পড়ে থাকা শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যার ঘটনা—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত স্বর্ণালীর পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের স্থানীয় নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। স্বামীর দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকার কারণে স্বর্ণালী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চরম হতাশা থেকেই স্বর্ণালী প্রথমে তার ৯ মাসের শিশুসন্তানকে হত্যা করে পরে আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার দুপুরে ঘরের সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত অবস্থায় স্বর্ণালীর মরদেহ পাওয়া যায় এবং তার পাশেই পড়ে ছিল শিশুটির নিথর দেহ।
নিহতের ভাই শুভ হালদার বলেন, তার বোনের স্বামী আগে থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। জামিন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এই পরিস্থিতি স্বর্ণালীর ওপর গভীর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। পরিবার থেকে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুম খান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।