বোরকা ব্যবহার করে জাল ভোট দেওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা–৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, এ ধরনের কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না। তিনি জানান, একটি দল নাকি বিপুল সংখ্যক বোরকা তৈরি করেছে—এমন তথ্য তিনি শুনেছেন। এর মাধ্যমে পুরুষরা নারী ভোটার সেজে বুথে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে বোরকার প্রতি নিজের শ্রদ্ধার কথা জানিয়ে বলেন, তাঁর মা নিজেও বোরকা পরতেন, কিন্তু বোরকা পরে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে পল্টনের আনন্দ ভবন কমিউনিটি সেন্টারে হজ, রিক্রুটিং ও ট্রাভেল এজেন্সির মালিকদের সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে দেশবাসী একটি ভালো নির্বাচন প্রত্যাশা করে। তবে ভোটের ফলাফল ঘোষণায় যদি ১২ ঘণ্টার বেশি দেরি হয়, তাহলে সেটিকে অসৎ উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনগণের কষ্টার্জিত ভোটাধিকার কোনো ধরনের অনিয়মের কারণে নষ্ট হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন এই বিএনপি নেতা।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, দেশ ও জাতি বর্তমানে এক ধরনের অস্বস্তিকর সময় পার করছে। ভালো আছি না খারাপ আছি—এটি ব্যাখ্যার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর দৃষ্টিতে আগের সময়ের তুলনায় এখন অনেক কিছুতেই পরিস্থিতি ভালো নয়। তবে একটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি, তা হলো পুলিশের হয়রানি আগের মতো নেই।
রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করেন একটি নির্দিষ্ট দিনে সবকিছু হয়ে গেছে। কিন্তু তাহলে প্রশ্ন ওঠে, গত ১৭ বছরে দলের নেতাকর্মীরা কী করেছেন। এই সময়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী গুম ও নিহত হয়েছেন, বহু মানুষ বছরের পর বছর কারাভোগ করেছেন। এসব ত্যাগের মধ্য দিয়েই আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, বয়স মানেই অচল হয়ে যাওয়া নয়। অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের জন্য একটি বড় সম্পদ। অভিজ্ঞ মানুষের কথা কাজে না লাগালে নতুন প্রজন্ম এগোতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পরিচ্ছন্ন নির্বাচনের প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারও দেশের জনগণ একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেবে।