রাজধানীর ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দিতে যাওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার তিন যুবককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় তাদের এই আদেশ দেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ধানমন্ডি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ইকবাল আহমেদ জিন্নাহ আদালতে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কারাগারে পাঠানো তিনজন হলেন— মো. সাকিব, মো. জিহাদুল ইসলাম জিহাদ ও রায়হান রিফাদ।
আদালতে তাদের পক্ষে আইনজীবী এম জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, শাহাব উদ্দিন রাজু, ওবাইদুল ইসলাম, মো. লিটন মিয়া ও খন্দকার নূর কুতুবুল আলমসহ একাধিক আইনজীবী জামিন শুনানিতে অংশ নেন। তারা আদালতে বলেন, ধানমন্ডি থেকে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করলেও অভিযোগিত ঘটনার সময় অনেক আগের। আসামিদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই এবং তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন সেখানে গেলেও অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুই আসামির বয়স ১৮ বছরের নিচে উল্লেখ করে বয়স ও অপরাধের সংশ্লিষ্টতা বিবেচনায় জামিনের আবেদন করা হয়।
শুনানিতে আদালত বলেন, বয়সের বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য কোর্টের নোটিশ প্রয়োজন হবে এবং চেহারা দেখে তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক মনে হচ্ছে। অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের মামলার সঙ্গে প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সদস্য বলে তথ্য মিলেছে। মামলার অন্যান্য অজ্ঞাত আসামিদের বিষয়ে তথ্য এড়িয়ে যাওয়ায় তদন্তের স্বার্থে তাদের কারাগারে পাঠানো প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রয়োজনে পরে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ৩০ নভেম্বর ধানমন্ডির কাজী নজরুল ইনস্টিটিউট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান ও মিছিল করেন। এ সময় ধানমন্ডি ২২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি শওকত ওসমান বাবু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্রলীগ কর্মী মিলন খানকে গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় ধানমন্ডি মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আল হেলাল এই তিন যুবককে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতার তিনজনের মধ্যে মো. সাকিব মিরপুর গভমেন্ট রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, মো. জিহাদুল ইসলাম নোয়াখালীর হাতিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী এবং রায়হান রিফাদ বরিশালের রুপধন বন্দর আমেরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। রিফাদের বাবা, পেশায় রাজমিস্ত্রী মনিরুজ্জামান, আদালতে উপস্থিত ছিলেন।