টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরের লাশ ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর দেশে আনা হয়েছে। রবিবার (১ মার্চ) রাত ৯টার দিকে যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে চলে যান। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন জোয়াহেরুল ইসলাম। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে কলকাতার দমদম এলাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক সপ্তাহের বেশি সময় চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং শেষ ছয় দিন লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। চিকিৎসকদের মতে, মাল্টি অর্গান ফেইলিওরের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী ও এক মেয়ে। স্ত্রী রওশন আরা খান মেডিক্যাল ভিসায় কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে সম্প্রতি কলকাতায় যান মেয়ে জাকিয়া ইসলাম। লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে স্ত্রী, মেয়ে এবং মেয়ের স্বামী মো. জামিল হাসান দেশে ফেরেন। বেনাপোল ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারা লাশ নিয়ে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, নিজ গ্রামেই তাকে দাফন করা হবে।
প্রবীণ আইনজীবী জোয়াহেরুল ইসলাম টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ছাত্রজীবনে করটিয়া সরকারি সা’দত কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের মনোনীত প্যানেল থেকে ভিপি নির্বাচিত হয়ে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে তিনি ‘ভিপি জোয়াহের’ নামেই পরিচিত ছিলেন। তার বাড়ি সখীপুর উপজেলার বেড়বাড়ি গ্রামে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, রাত ৯টার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স বাংলাদেশে পৌঁছায় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিবারের সদস্যরা টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।