ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাতের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা করোনা মহামারির পর একদিনে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানায়, এশিয়ার বাজারে সকালে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ দশমিক ৭৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুডের দাম ২৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ১১৪ দশমিক ৭৮ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে হয়ে থাকে। কিন্তু চলমান সংঘাতের পর সেখানে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া ইরানের তেল ডিপো ও অবকাঠামোর ওপর নতুন হামলার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এদিকে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান সূচকগুলোতে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। হংকংয়ের হ্যাংসেং সূচক নেমেছে ৩ শতাংশের বেশি। আর অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স ২০০ সূচক কমেছে ৪ শতাংশেরও বেশি। বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।