পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, একসময় পুলিশ তার মূল দায়িত্ব থেকে কিছুটা বিচ্যুত হয়েছিল, তবে সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ করছে বর্তমান বাহিনী। তিনি বলেন, পুলিশের প্রধান দায়িত্ব হলো আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, আর সেই লক্ষ্যেই বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ৫ আগস্টের হতাহতের ঘটনা প্রসঙ্গে আইজিপি জানান, ওই সময় পুলিশসহ অনেক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রতিটি ঘটনার আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার করা হবে।
আইজিপি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেশের ইতিহাসে একটি সফল নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে। শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে তিনি নাগরিকদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানান।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকার বাইরে এটিই তার প্রথম সফর বলে জানান পুলিশপ্রধান। তিনি বলেন, রাজশাহীর মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং এখানে অপরাধের হার তুলনামূলকভাবে কম, তাই এই অঞ্চলের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগ বাড়াতে ও অর্থনৈতিক গতি ফিরিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর পুলিশের মনোবল একসময় অনেকটা নেমে গিয়েছিল এবং জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, যা কিছু ভুল সিদ্ধান্তের ফল। তবে বর্তমানে সেই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে কাজ চলছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, মাদকের কারণে যুবসমাজ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সঠিক তথ্য প্রচার এবং বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিহার করা জরুরি। কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য ও জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য।