জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা নির্বাচন কারচুপির সঙ্গে জড়িত ছিল। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারের অনেকের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
শনিবার (৪ এপ্রিল) জয়পুরহাট শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত ইউনিট সভাপতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অনেক উপদেষ্টা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। তিনি এই ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, জামায়াতকে মূলধারার রাজনীতিতে আসতে না দেওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক পক্ষপাতের ইঙ্গিত দেয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচন কীভাবে হয়েছে তা জনগণ ও গণমাধ্যমের কাছে স্পষ্ট। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা শুরু থেকেই দলীয় সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
গণভোট ও সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, গণভোট ও সংস্কার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের উদাহরণ টেনে তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, অনেক সময় সরকার প্রথমে কোনো দাবি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে তা মানতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমান সরকারও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে একসময় বাধ্য হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।