হাজার কোটি টাকার তেল পাইপলাইন ও মজুত সক্ষমতা ফেলে রেখেছে বাংলাদেশ

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

বড় জাহাজ থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল খালাস ও পরিবহনের লক্ষ্যে কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মিত হাজার কোটি টাকার অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে অলস পড়ে আছে। প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত সিঙ্গেল পয়েন্ট ম্যুরিং (এসপিএম) প্রকল্প ২০২৪ সালে সম্পন্ন হলেও এখনো চালু করা যায়নি, মূলত অপারেটর নিয়োগে জটিলতার কারণে।

প্রকল্পটি চালু হলে গভীর সমুদ্র থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল পরিবহন সম্ভব হতো, যা সময় ও খরচ—উভয়ই কমাতো। বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে (লাইটারেজ) করে তেল পরিবহন করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। অথচ এসপিএম ব্যবস্থায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় একই পরিমাণ তেল খালাস ও পরিবহন করা সম্ভব, যেখানে প্রচলিত পদ্ধতিতে সময় লাগে প্রায় ১১ দিন।

মহেশখালীতে নির্মিত এই অবকাঠামোয় ছয়টি স্টোরেজ ট্যাংকে প্রায় দুই লাখ টন তেল মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ট্যাংক ক্রুড অয়েলের জন্য এবং তিনটি ডিজেলের জন্য নির্ধারিত। এছাড়া গভীর সমুদ্র থেকে মহেশখালী হয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড পর্যন্ত ২২০ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান জ্বালানি সংকটে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। এটি চালু থাকলে বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা সাশ্রয় সম্ভব হতো, এমনকি বর্তমান সক্ষমতায়ও অন্তত ৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা যেত। পাশাপাশি তেল পরিবহনে অপচয় কমানো, পরিবেশ সুরক্ষা এবং দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অপারেটর নিয়োগে বিলম্ব, নীতিগত জটিলতা এবং প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে প্রকল্পটি চালু করা যায়নি। পূর্বে বিশেষ আইনের আওতায় দরপত্র ছাড়াই পরিচালনার সিদ্ধান্ত থাকলেও পরবর্তীতে সেই আইন বাতিল হওয়ায় নতুন করে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়, যা সময়ক্ষেপণের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, প্রকল্পটি দ্রুত চালুর জন্য দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছে এবং শিগগিরই অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তেল পাইপলাইন ব্যবস্থাপনার জন্য পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি পিএলসি গঠন করা হয়েছে, যারা ভবিষ্যতে এই অবকাঠামোর দায়িত্ব নেবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এত বড় বিনিয়োগ দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়ছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছে। দ্রুত প্রকল্পটি চালু করে পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com