শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুনর্নিয়োগের সরকারি উদ্যোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান সচল রাখতে এ পদক্ষেপকে প্রয়োজনীয় বলা হলেও, অন্যদিকে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন চাকরিপ্রত্যাশী তরুণরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, সারাদেশের বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকস্বল্পতা পূরণে উপজেলাভিত্তিক ‘অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পুল’ গঠন করা হচ্ছে। এই পুল থেকে শারীরিকভাবে সক্ষম ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সাময়িকভাবে নিয়োগ দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকেই তাদের সম্মানী দেওয়া হবে।
সরকার বলছে, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব এবং শূন্য পদের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, দেশে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে বর্তমানে ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা। তাদের অভিযোগ, নতুন নিয়োগ না দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ফেরানো হলে চাকরির সুযোগ আরও সংকুচিত হবে। ইতোমধ্যে দেশে বেকারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখের বেশি, যার বড় একটি অংশ উচ্চশিক্ষিত তরুণ।
চাকরিপ্রার্থীদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেকেই চাকরির বয়সসীমা অতিক্রমের ঝুঁকিতে আছেন। এমন অবস্থায় অবসরপ্রাপ্তদের পুনর্নিয়োগ তরুণদের জন্য বড় ধরনের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষক সংকট নিরসনে এটি একটি সাময়িক সমাধান হতে পারে। তবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি। তা না হলে শিক্ষার গুণগত মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।