আগামীকাল রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন, যা চলবে ৬ মে পর্যন্ত। সম্মেলনে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে এবং জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাব থেকে বাছাই করা ৪৯৮টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি জানান, সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যা অনুষ্ঠিত হবে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ। উদ্বোধনের পর বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনে নতুন সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসকদের রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রস্তাব এসেছে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এর মধ্যে রয়েছে—দেশের হাসপাতালগুলোতে এন্টিভেনাম ইনজেকশন সহজলভ্য করা, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে অন্তত একটি করে অ্যাম্বুলেন্স প্রদান, জেলা কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য শনাক্তে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
সম্মেলনের কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনা হবে। দিন শেষে জেলা প্রশাসকরা বঙ্গভবন-এ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
দ্বিতীয় দিনে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার-এর সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন বিভাগের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তৃতীয় দিনে সশস্ত্র বাহিনী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত বিষয় আলোচনায় আসবে এবং জেলা প্রশাসকরা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এ প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা শেষে সম্মেলনের সমাপ্তি হবে। এদিন রাতে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হবে।