পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগের দিন আজ শুক্রবার সকাল থেকেই প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখছে দেশবাসী। সকাল ১০টার দিকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায়। শুরু হয় ধূলিঝড়, এরপর বিকট শব্দে বজ্রপাত আর মুহুর্মুহু বিদ্যুতের ঝলকানির সঙ্গে নামে মুষলধারে বৃষ্টি। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি এই মৌসুমের অন্যতম শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, এই ঝড়ো পরিস্থিতি আজ রাত ১টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর ওপর দিয়ে উত্তর, পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আজ রাত ১টার মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১২টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে তীব্র কালবৈশাখী বয়ে যেতে পারে। এই জেলাগুলো হলো ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি। এসব এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এর ফলে ঘরবাড়ি ও গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে কাঁচা ঘর ও টিনের চালের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা দেখছে অধিদপ্তর।
নদীমাতৃক বাংলাদেশে ঈদের আগে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে নদীবন্দরগুলোতে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উল্লেখিত ১২টি জেলার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ, হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ছোট ছোট লঞ্চ ও ট্রলারকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। তবে ঈদের নামাজ ও উৎসবের আনন্দ মাটি করে দিতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঈদের দিন দেশের আটটি বিভাগেরই কোনো না কোনো অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু, এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না আবহাওয়া দপ্তর।
আবহাওয়ার এই অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। পাশাপাশি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ সক্রিয় রয়েছে। এই দুইয়ের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের আধিক্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে এবং মুহুর্মুহু বজ্রপাত ঘটছে। সকাল থেকেই রাজধানীতে যে পরিমাণ বজ্রপাত ও মেঘের গর্জন শোনা গেছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে বজ্রপাতের সময় খোলা স্থানে না থাকার এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঈদের আগের দিন এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে নৌ, হুঁশিয়ারি সংকেতের কারণে অনেক লঞ্চ ছাড়তে দেরি হওয়ায় যাত্রীরা উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।
অন্যদিকে, রাজধানীর রাজপথ বৃষ্টির কারণে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা ও প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটছে। ঈদের আনন্দ উদযাপনে আবহাওয়া একটি বড় নিয়ামক। যেহেতু আগামীকালও ঝড়, বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তাই জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের প্রধান প্রধান ঈদগাহগুলোতে সামিয়ানা ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ছাতা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করলে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ এড়ানো সম্ভব হবে।