রাজধানী ঢাকা–এর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের রেশনিং পদ্ধতি তুলে নেওয়া হলেও অকটেন ও পেট্রলের সরবরাহে অসামঞ্জস্য তৈরি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন পরিবহনের চালকরা।
মোহাম্মদপুর, আসাদ গেট, বিজয় সরণি, পরীবাগ, মতিঝিল, রাজারবাগ, মগবাজার, নিউমার্কেট, গাবতলী ও মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পাম্পে অকটেন না পেয়ে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরছেন গ্রাহকরা। অনেককে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে ডিজেল ও পেট্রলের তেমন সংকট নেই বলে জানা গেছে।
ঈদের ছুটি শেষে রাজধানীতে কর্মজীবী মানুষের ফেরার কারণে জ্বালানির চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার অফিস-আদালত খোলার প্রেক্ষাপটে এই সংকট আরও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, দেশে অকটেনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহেও কোনো ঘাটতি নেই। তবে পাম্প মালিকদের অভিযোগ, বিক্রির তুলনায় ডিপো থেকে তারা প্রয়োজনীয় অকটেন পাচ্ছেন না।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)–এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে অকটেনের মজুত স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন চাহিদার চেয়ে বেশি অকটেন বিক্রি হয়েছে। এছাড়া আগামী ২ এপ্রিল ২৫ হাজার টন অকটেনবাহী একটি কার্গো দেশে আসার কথা রয়েছে, যা সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক করবে।
এদিকে, জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটি বলছে, কোম্পানিগুলো থেকে পাওয়া দৈনিক তেল দিয়ে বর্তমান চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে সারাদেশেই সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।