জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) দেশটির নিম্নকক্ষ নির্বাচনে ঐতিহাসিক ভূমিধস জয় অর্জন করেছে। নির্বাচনের ফলাফলে এলডিপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে, যা যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো একক দলের জন্য প্রথম ঘটনা।
এই নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স তাদের অর্ধেকেরও বেশি আসন হারিয়েছে। ফলে দেশটির রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে এনএইচকে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন।
মাত্র তিন মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই তারা দৃশ্যমান ফলাফল অর্জন করেছেন বলে তিনি মনে করেন।
এ কারণে আপাতত মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে, প্রয়োজনে জাপান ইনোভেশন পার্টির কাউকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী।
দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে এলডিপি উচ্চকক্ষ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত কোনো বিল পুনরায় পাস করাতে সক্ষম হবে। এছাড়া সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব গণভোটে তোলার ক্ষেত্রেও উভয় কক্ষে এই পরিমাণ সমর্থন অপরিহার্য, যা এখন এলডিপির হাতে রয়েছে।
এলডিপির জোট শরিক জাপান ইনোভেশন পার্টির নেতা ইয়োশিমুরা হিরোফুমি বলেন, নির্বাচনটি অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির প্রতি প্রবল সমর্থনের পাশাপাশি অনেক ভোটার তাদের দলকেও ভোট দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, জোট সরকারের মাধ্যমে নীতিমালা বাস্তবায়ন করে ভোটারদের আস্থার প্রতি সম্মান জানানোই তাদের লক্ষ্য।
অন্যদিকে, নির্বাচনে পরাজয়ের বিষয়ে সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্সের কো-প্রেসিডেন্ট নোদা ইয়োশিহিকো বলেন, জনগণের রায় বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করা ছাড়া তাদের আর কোনো বিকল্প নেই। কঠিন ফলাফল হলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানাতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডেমোক্রেটিক পার্টি ফর দ্য পিপলের প্রেসিডেন্ট তামাকি ইয়ুইচিরো বলেন, তাদের দল জনগণের কল্যাণমূলক নীতিমালাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে। জোট গঠনের চেয়ে নীতিগত সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এদিকে সানসেইতোর সভাপতি কামিয়া সোহেই জানান, তাদের দল ১৮২ জন প্রার্থী দিতে সক্ষম হয়েছে, যা দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। নির্বাচনী ফলাফল গভীরভাবে পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে একক আসনের নির্বাচনী এলাকাগুলোতে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।