বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের দামে উল্লেখযোগ্য পতনের কারণে নতুন করে চাপে পড়েছে বাংলাদেশের রফতানি খাত। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের গড় দাম প্রায় ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি। অন্যদিকে একই সময়ে প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামের পোশাকের দাম বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ, ভারতের প্রায় ২ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে তা ১৪ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুধু দামই নয়, রফতানি আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পোশাক খাতে রফতানি আয় কমেছে ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একই সময়ে কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্র খোলার হার কমেছে ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ফলে বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি কমেছে প্রায় ১ শতাংশ এবং সবচেয়ে বড় গন্তব্য ইউরোপে কমেছে ২৫ শতাংশের বেশি।
রফতানিকারকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে কম দামে অর্ডার নিতে বাধ্য হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। এতে লাভের মার্জিন কমে যাচ্ছে এবং শিল্প খাতের ওপর চাপ বাড়ছে।
বিজিএমইএর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির কারণে ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় পোশাকের চাহিদাও হ্রাস পাচ্ছে। ফলে অর্ডার কমে যাচ্ছে এবং বাজার ধরে রাখতে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদরা দেশের নিজস্ব কাঁচামাল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা বলছেন, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে হলে শুধু কাপড় আমদানি করে পোশাক তৈরি নয়, বরং সুতা ও কাপড় দেশেই উৎপাদন করতে হবে।
এদিকে ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউরোপের মোট পোশাক আমদানি আগের বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ কমেছে, যা বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে।