বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের পেছনে টিকা সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী Science-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকার সংকট ও টিকাদান কর্মসূচির ব্যাঘাত পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ১ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩৮ হাজার ৩০১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৩১ জনের। একই সময়ে হাজার হাজার শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যেখানে বেড সংকটের কারণে অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এই সংকটের অন্যতম কারণ। আগে UNICEF-এর মাধ্যমে টিকা সরবরাহ করা হলেও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকার ‘উন্মুক্ত দরপত্র’ পদ্ধতি চালু করে। এতে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয় এবং টিকার মজুদ ফুরিয়ে গিয়ে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
ইউনিসেফ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে আগেই সতর্ক করেছিল যে, এ ধরনের পরিবর্তন জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে সেই সতর্কতা উপেক্ষা করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পরিস্থিতির অবনতি হলে আবারও ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে ফিরে আসে সরকার এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়।
বিশ্বব্যাপীও হামের পুনরুত্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। World Health Organization ইতোমধ্যে সতর্ক করে জানিয়েছে, টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, করোনা মহামারির প্রভাব এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক দেশেই হাম আবার ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে টিকার ঘাটতির পাশাপাশি অপুষ্টি, ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচির ব্যাঘাত এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। ফলে শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গিয়ে মৃত্যুঝুঁকি বেড়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা সতর্ক করেছেন, দ্রুত কার্যকর টিকাদান কর্মসূচি জোরদার না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।