সাম্প্রতিক :
এই চেয়ারে বসলে মনে হয় আগুনের তপ্ত হিট আসছে: প্রধানমন্ত্রী মহান মে দিবস আজ, শ্রমিকদের অবদানে শ্রদ্ধা ও অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার ঢাকা বার নির্বাচন : ৬৬ শতাংশ আইনজীবীই দেননি ভোট শোওয়া শতবার্ষিকীতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী দেশে আশার আলো জাগানোর অঙ্গীকার করেছেন এপ্রিলে মব সহিংসতায় নিহত ২১: এমএসএফ জামিন পেলেন ঢাবির হল সংসদের সাবেক ভিপি ইমি জাপানে বাংলাদেশি তরুণের মৃত্যু, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার সন্দেহ ‘মব সৃষ্টিকারীরা আগামী দিনে গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকারক হবে’ দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি, ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা ঢাবির হল সংসদের সাবেক ভিপি ইমির জামিন বিষয়ে আদেশ বৃহস্পতিবার

এই চেয়ারে বসলে মনে হয় আগুনের তপ্ত হিট আসছে: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

জাতীয় সংসদের সমাপনী অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকারপ্রধানের দায়িত্বের চেয়ারটি বাইরে থেকে যতটা আরামদায়ক মনে হয়, বাস্তবে তা নয়; বরং এটি অত্যন্ত কঠিন দায়িত্বের প্রতীক। তিনি বলেন, “এই চেয়ারে বসলে প্রতি মুহূর্তে মনে হয় আগুনের তপ্ত হিট আসছে।”

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম কার্যদিবসে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে জনপ্রিয় কথা বলে হাততালি পাওয়া সহজ হলেও দায়িত্বের এই অবস্থান তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যদিও তা সবসময় জনপ্রিয় নাও হতে পারে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং নানা সমস্যার সমাধানের চাপই এই ‘চেয়ারের উত্তাপ’ বাড়িয়ে দেয়। তাই সংসদ সদস্যদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, জনপ্রিয়তার চেয়ে সঠিক সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনা করতে।

কৃষি ও পরিবেশগত সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলাবদ্ধতা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়ার সমস্যা অত্যন্ত গুরুতর। তিনি জিয়াউর রহমান-এর খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে জানান, এ ধরনের উদ্যোগ পুনরায় চালু করা হলে দীর্ঘমেয়াদে পানির স্তর পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে, যদিও এর সুফল পেতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগতে পারে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা খাতে মোট বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক উপকরণ প্রদান এবং শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে শুধু অবকাঠামো নয়, চিকিৎসক, যন্ত্রপাতি ও ওষুধের নিশ্চয়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে গণতন্ত্র ব্যাহত হলে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৭৩ দিনের হরতালের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেশকে ভোগান্তিতে ফেলে।

তিনি জানান, প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, যা মোকাবিলায় স্থিতিশীল সরকার ও কার্যকর সংসদ অপরিহার্য। একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব এখনো খোলা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।

বেকারত্ব ও কৃষি ক্ষতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বিতর্ক দিয়ে মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধান হয় না। তিনি বলেন, “মানুষ এখন ডিবেট নয়, সমাধান চায়।” বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একে অপরকে ব্যর্থ করার প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সম্মিলিতভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

একটি আত্মনির্ভরশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তথ্যপ্রযুক্তিসহ সব খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সরকার ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com