সাম্প্রতিক :
শুক্রবার থেকে বিমানে বহনযোগ্য চার্জার ব্যবহার নিষিদ্ধ জাপানে জাতীয় গোয়েন্দা ব্যুরো গঠনের বিল পাস করেছে জাপানের সংসদের নিম্নকক্ষ মেধানির্ভর আত্মবিশ্বাসী মানবসম্পদ গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দ্রব্যমূল্যে পড়বে না: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী প্রথমবারের মতো নিজেদের মাটিতে বিদেশি সেনা মোতায়েনের অনুমতি দিলো ভারত চট্টগ্রাম নগরে এক দিনে তিন স্থানে নিষিদ্ধ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ–এর মিছিল টিকার অভাবে বাংলাদেশ এখন হামের উচ্চঝুঁকিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে বাংলাদেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে : মির্জা ফখরুল লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রীকে তৎপরতা জোরদারের আহ্বান রিজভীর রূপগঞ্জ ও কালীগঞ্জ যুক্ত হচ্ছে ঢাকায়

টিকার অভাবে বাংলাদেশ এখন হামের উচ্চঝুঁকিতে

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশে হামের বর্তমান পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে ইতোমধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া, টিকাদানে ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে ১৯ হাজার ১৬১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৮৯৭। আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু, যাদের মধ্যে প্রায় ৮৩ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে। এছাড়া ৯১ শতাংশ রোগীর বয়স ১ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে, যা শিশুদের মধ্যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।

ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলো—বিশেষ করে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীর চর, কড়াইল, মিরপুর ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যেও অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে ১৬৬ শিশুর সন্দেহজনক মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই টিকা না পাওয়া দুই বছরের কম বয়সী শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯৮ শিশুর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, বাংলাদেশ একসময় হাম নির্মূলের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, এমআর টিকার সরবরাহ সমস্যা এবং নিয়মিত সম্পূরক টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়েছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমণের ৭ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং মুখের ভেতরে সাদা দাগের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। পরে শরীরে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে নজরদারি জোরদার, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং টিকাদান কর্মসূচি শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সব এলাকায় অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুদের মধ্যে হামপ্রতিরোধী টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে তারা।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com