মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর পরিচালিত দেশের ২০টি সরকারি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র বর্তমানে চরম সংকটে পড়েছে। বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন বিল বকেয়া থাকায় এসব কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো খাবার সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত এসব কেন্দ্রে কর্মজীবী বাবা-মায়েরা তাঁদের শিশুদের রেখে যান। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের চাকরি চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
জানা গেছে, কেন্দ্রগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। সম্প্রতি কিছু বকেয়া পরিশোধ করা হলেও এখনো পুরো টাকা দেওয়া হয়নি। ফলে কর্মীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন এবং ইতিমধ্যে কর্মবিরতির ঘোষণাও দিয়েছেন।
অন্যদিকে, খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েক মাসের বিল বকেয়া রয়েছে। পাওনা টাকা না পাওয়ায় তারা ১ এপ্রিল থেকে শিশুদের জন্য খাবার সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। এতে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
এছাড়া কিছু কেন্দ্র ভাড়া বাসায় পরিচালিত হওয়ায় বাড়িভাড়া বকেয়া থাকায় বাড়ির মালিকদের চাপও বেড়েছে। এমনকি একটি ক্ষেত্রে কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেয়াদ বাড়ানো হলেও অর্থ ছাড় ও প্রশাসনিক অনুমোদন জটিলতার কারণে অর্থ ব্যয় করা যাচ্ছে না। ফলে বেতন, ভাড়া ও সরবরাহ বিল পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে। বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ এবং খাবার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ঠিকাদারদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি প্রকল্পটিকে আরও টেকসই করে ভবিষ্যতে মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।