২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ নিহত ও আহতদের স্মৃতি সংরক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন-কে রূপান্তর করা হয়েছে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ। প্রায় ১৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই জাদুঘরের উদ্বোধন কবে হবে তা এখনো অনিশ্চিত। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। তবে উদ্বোধনের নামে ইতোমধ্যে দুই দফায় কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ব্যয়ের মধ্যে ইন্টারনেট বিল, সেমিনার, আলোচনা, পরামর্শ ও আপ্যায়ন খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মাত্র দুই মাসে সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্য ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ভাউচার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছরের ২১ মে থেকে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ টাকা আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এরই মধ্যে জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল সংশোধিত আকারে পাস হয়েছে। নতুন আইনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী জাদুঘরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
তথ্য অনুযায়ী, জাদুঘরের বাস্তবায়ন কাজের দায়িত্বে ছিল বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। তবে পৃথক বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় জাদুঘরের নিজস্ব তহবিল থেকে আপ্যায়ন ও শ্রম ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে কয়েক কোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ অনিয়মের সঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাদুঘরের মহাপরিচালক, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিজি তানজিম ওয়াহাব এবং পর্ষদের চেয়ারম্যান মেরিনা তাবাসসুম-এর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া গণভবনের চারদিকে টিনের বাউন্ডারি নির্মাণে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিনা টেন্ডারে মালপত্র ক্রয় এবং একই কাজ দুবার দেখিয়ে ভুয়া টেন্ডারের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকার বেশি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে, যদিও কাজটি বাস্তবায়ন করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাদুঘরের মাস্টারপ্ল্যান, স্থাপত্য নকশা ও আধুনিক ডিজাইন প্রণয়নের জন্য গত বছরের ১৩ আগস্ট প্রায় ৫ কোটি ৪৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকার চুক্তি অনুমোদন করা হয়।
এত বিপুল ব্যয় ও অনিয়মের অভিযোগের মধ্যেও জাদুঘরটি কবে উদ্বোধন হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য না থাকায় জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।