বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দিনাজপুরের এক যুবককে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের কাছে বিক্রি করার অভিযোগে গাইবান্ধা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী যুবক মো. শাফিন মণ্ডল জানান, তাকে ‘ডেথ ক্যাম্পে’ আটকে রেখে তিন মাস ধরে অমানবিক নির্যাতন করা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাহাদ ইবনে শহিদ ও তার বাবা মো. শহিদুল ইসলামের মাধ্যমে কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরির আশ্বাসে শাফিনকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। এ জন্য তাকে কয়েক দফায় মোট ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়। গত বছরের ৩১ অক্টোবর তিনি কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পরই চক্রের সদস্যরা তাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলারে বিক্রি করে দেয় একটি অপরাধী গোষ্ঠীর কাছে।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, নমপেন থেকে তাকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরের পোইপেট এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বন্দি রাখা হয়। সেখানে তাকে শারীরিক নির্যাতন, বিদ্যুৎ শক দেওয়া এবং খাদ্য থেকে বঞ্চিত করার মতো ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়। একই সঙ্গে পরিবারকে হুমকি দিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা চালানো হয়।
তিন মাস নির্যাতনের পর গত ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি আরও ২০-২২ জন বন্দির সঙ্গে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দূতাবাসের সহায়তায় দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার প্রক্রিয়ায় জরিমানা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
এ ঘটনায় শাফিনের বাবা নূর ইসলাম বাদী হয়ে দিনাজপুর আদালতে মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় রাহাদ ইবনে শহিদ ও তার বাবাসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে, যারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত রাহাদ ইবনে শহিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট এবং ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগীর পরিবার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, মানবপাচারের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত একটি বড় চক্রের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।