২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (Agreement on Reciprocal Trade-ART) ঘিরে দেশে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চুক্তিটি স্বাক্ষরের সময়কাল, এর শর্তাবলি এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহল ভিন্নমত প্রকাশ করছে।
সমালোচকদের একটি অংশ দাবি করছে, চুক্তিটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং নীতিনির্ধারণী সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে কৃষি, মৎস্য, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধশিল্প এবং শ্রমবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বিদেশি প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ায় এর গণতান্ত্রিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
৩২ পৃষ্ঠার এই চুক্তির ভাষা নিয়েও বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। কিছু বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এতে “shall” শব্দের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি, যা বাধ্যতামূলক অঙ্গীকার নির্দেশ করে, যেখানে “will” শব্দের ব্যবহার কম, যা তুলনামূলকভাবে ইচ্ছাধীন বিষয় বোঝায়। সমালোচকদের মতে, এতে একতরফা দায়বদ্ধতার ইঙ্গিত থাকতে পারে, যদিও বিষয়টি ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল।
চুক্তির বিভিন্ন ধারায় শুল্ক ও কোটা, অশুল্ক বাধা, মান নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি নীতির বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন পণ্যের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক অশুল্ক বাধা না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধকে বিজ্ঞানভিত্তিক ও ঝুঁকিভিত্তিক করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার সহজ করার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।
অর্থনীতিবিদ মুস্তাফিজুর রহমান-সহ কয়েকজন বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন, এই চুক্তির কিছু ধারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্বাধীন বাণিজ্যনীতি প্রণয়নে সীমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে।
অন্যদিকে, চুক্তির সমর্থকরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে সংযুক্ত হওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে বাস্তবায়ন পদ্ধতি, নীতিগত সমন্বয় এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের ওপর।
মোটের ওপর, চুক্তিটি বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ—দুই দিকই উন্মুক্ত করেছে। এ নিয়ে চলমান বিতর্ক ভবিষ্যতে আরও বিশ্লেষণ ও নীতিগত আলোচনার জন্ম দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।