দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে পরীক্ষার কিট সংকট দেখা দেওয়ায় জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট-এর পরীক্ষাগারেই হামের নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যেখানে কিটের সংখ্যা সীমিত হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, পরীক্ষাগারে বর্তমানে মাত্র সাতটি কিট রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ প্রায় ৬৩০টি রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। বর্তমান হারে পরীক্ষা চলতে থাকলে এই মজুত ছয় দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতে পারে। কিট সংকটের কারণে গত এপ্রিল মাস থেকেই নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, নতুন কিট দ্রুত সরবরাহ না হলে ১১ মের পর দেশে হামের নমুনা পরীক্ষা কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে রোগ শনাক্তকরণ ব্যাহত হবে এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো, রোগীদের দ্রুত শনাক্ত করে পৃথকীকরণ, এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা। প্রয়োজন হলে হামের পরিস্থিতিকে মহামারি হিসেবে বিবেচনা করে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন তারা।
মোমিনুর রহমান জানান, কিট সংকটের কারণে নমুনা পরীক্ষা কমে গেছে। এক মাস আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর কাছে কিটের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে, তবে তা এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১৫ মে নাগাদ নতুন কিট সরবরাহ পাওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত কিট সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে জনস্বাস্থ্যে অর্জিত অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে এবং সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।