সাম্প্রতিক :
ভারত থেকে বাংলাদেশে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসছে। ঢাবিতে তোফাজ্জল হত্যা: ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ৭ মার্চ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় ঢাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ ছাত্রশক্তি ও শিবিরের বিরুদ্ধে ভারতে গ্রেপ্তার হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে দ্রুত দেশে ফেরানো হবে: আইজিপি ইরান ঘিরে উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে আগুন কারামুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাকে জেলগেটে ফুল দিয়ে বরণ করলেন বিএনপির এমপি মোহাম্মদপুরে এবার চাপাতি-সামুরাই দেখিয়ে দুদক মহাপরিচালকের আইফোন ছিনতাই রাজধানীতে সয়াবিন তেল সরবরাহে সংকট, বেড়েছে দামও ২৬ মার্চে দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীকে মূলধারা থেকে দূরে রেখে জাতীয় অগ্রগতি সম্ভব নয়: রাষ্ট্রপতি

টানা কমছে দেশের রপ্তানি আয়, সামনে আরও কমার আশঙ্কা

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৫

টানা তৃতীয় মাসের মতো অক্টোবরেও কমেছে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আয়। এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবরে রপ্তানি আয় কমেছে ৭.৪৩ শতাংশ। বিশেষজ্ঞ ও রপ্তানিকারকরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক এবং ব্যাংক খাতের চলমান সংকটের কারণে আগামী মাসগুলোতেও এই খাতের চিত্র ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩.৬৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসে ছিল ৪.১৩ বিলিয়ন ডলার। যদিও সেপ্টেম্বারের তুলনায় অক্টোবরে রপ্তানিতে সামান্য উন্নতি দেখা গেছে, তবে সামগ্রিকভাবে প্রবণতা নিম্নমুখী।

রপ্তানিকারকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডারে প্রভাব ফেলছে। যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ এবং ইউরোপীয় বাজারে চীনের উপস্থিতি বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের অর্ডার কমে গেছে। পাশাপাশি, দুর্বল ব্যাংক ব্যবস্থার কারণে ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলায় জটিলতা তৈরি হয়েছে, যা রপ্তানিকে আরও বাধাগ্রস্ত করছে।

ডিবিএল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এম.এ. রহিম ফিরোজ বলেন, “আগের তুলনায় আমাদের অর্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বড় ক্রেতারাও অর্ডার কমাচ্ছে, ফলে নিটিং ও ডাইং ইউনিটগুলো অর্ধেক সক্ষমতায় চলছে। নির্বাচনের আগে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।”

বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যার অর্ধেক ইউরোপীয় ইউনিয়নে এবং প্রায় ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়। ইপিবির হিসাব অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৮.৩৯ শতাংশ।

বিজিএমইএ সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী বলেন, “পোশাক রপ্তানি কমার তিনটি প্রধান কারণ হলো—নির্বাচনকালীন অনিশ্চয়তায় ক্রয়াদেশ হ্রাস, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে চীনা পণ্যের ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ, এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি জটিলতা। ক্রেতারা এখন ঝুঁকি নিতে চায় না, ফলে অর্ডার কমছে।”

অন্য রপ্তানিকারকরাও জানান, ব্যাংক খাতে তারল্য সংকটের কারণে অনেক উদ্যোক্তা সময়মতো এলসি খুলতে পারছেন না। সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোতে আমানত কমে যাওয়ায় এই সংকট আরও গভীর হয়েছে।

ইপিবির পরিসংখ্যান বলছে, জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে কেবল জুলাইয়েই রপ্তানি বেড়েছিল; এরপর তিন মাসই রপ্তানি কমেছে। যদিও এই চার মাসে মোট রপ্তানি আয় আগের বছরের তুলনায় ২.২২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬.১৪ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ১৫.৭৯ বিলিয়ন ডলার।

অক্টোবরে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি হিমায়িত মাছের রপ্তানি কমেছে ১৩ শতাংশ, প্লাস্টিক পণ্য ১২ শতাংশ এবং কৃষিপণ্য ১০ শতাংশ। বিপরীতে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য বেড়েছে ১৩ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্য ৭ শতাংশ এবং হোম টেক্সটাইল ১৪ শতাংশ।

পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটেগরিতে আরো খবর
Japan Bangla Press © 2025. All Rights Reserved.
Site Customized By NewsTech.Com