দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্যকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেনা সদস্যদের বিশ্রাম ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রশিক্ষণের জন্য আপাতত অর্ধেক সদস্যকে মাঠ থেকে সরানো হবে। আগামী বুধবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বিশ্রাম ও প্রশিক্ষণ শেষে এই সদস্যরা পুনরায় মাঠে যোগ দেবেন এবং পরবর্তীতে বাকি সদস্যদের একইভাবে সরিয়ে নেওয়া হবে।
বৈঠকে উপস্থিত সরকারের দুইজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেনা সদস্যদের আংশিকভাবে প্রত্যাহারের মাধ্যমে মাঠে এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করতে চায় সরকার। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি হ্রাসের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক থাকে, সেটি মূল্যায়ন করা হবে। দীর্ঘ সময় ধরে টানা মোতায়েনে থাকার কারণে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জটিলতাও তৈরি হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন তারা।
তবে সরকারের সূত্র বলছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী আবারও মাঠে থাকবে।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রদান করা হয়, যা এখনও কার্যকর রয়েছে।